পরীক্ষামূলক সংস্করণ ১১ সেপ্টেম্বর: টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ২৫ বছর
আজ শুক্রবার || ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

১১ সেপ্টেম্বর: টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ২৫ বছর

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক । আজ ১১ সেপ্টেম্বর—ভয়াল ‘নাইন ইলেভেন’। ২০০১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আত্মঘাতী হামলা চালান। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। স্থানীয় সময় ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। আঘাতের পর আগুন ও ধোঁয়ায় ভবন দুটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে। এরপর আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনের পশ্চিম পাশে আঘাত হানে। এতে ভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চতুর্থ বিমান, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩, ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা সবাই নিহত হন।

হামলার পর বদলে যায় বিশ্ব:

নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে তিনি নিহত হন।

নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নতুন মাত্রা পায়। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

১৯ ছিনতাইকারী:

মার্কিন তদন্তে হামলার সঙ্গে জড়িত ১৯ জন ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাদের ১৫ জনই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন। মিসরের নাগরিক মোহাম্মদ আত্তা ছিলেন ফ্লাইট ১১-এর হামলাকারী দলের নেতা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক মারওয়ান আল-শেহলি ফ্লাইট ১৭৫-এর দলের নেতৃত্ব দেন। ফ্লাইট ৭৭-এর হামলাকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন হানি হানজুর এবং ফ্লাইট ৯৩-এর নেতৃত্বে ছিলেন লেবাননের নাগরিক জিয়াদ জাররাহ।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলাকারীদের কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রে একাধিকবার প্রবেশ করেছিলেন এবং হামলার আগে তারা দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করে উড়োজাহাজ চালনার প্রশিক্ষণসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

স্মৃতিতে ১১ সেপ্টেম্বর:

২৫ বছর পরও নাইন ইলেভেনের স্মৃতি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসীর কাছে গভীরভাবে বেদনাদায়ক। নিহতদের স্মরণে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত হয়েছে ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়াম। প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর সেখানে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায় নয়—এটি বৈশ্বিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির গতিপথও বদলে দেওয়া একটি ঘটনা।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের

১১ সেপ্টেম্বর: টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ২৫ বছর

আপডেট টাইম : ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক । আজ ১১ সেপ্টেম্বর—ভয়াল ‘নাইন ইলেভেন’। ২০০১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আত্মঘাতী হামলা চালান। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। স্থানীয় সময় ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। আঘাতের পর আগুন ও ধোঁয়ায় ভবন দুটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে। এরপর আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনের পশ্চিম পাশে আঘাত হানে। এতে ভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চতুর্থ বিমান, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩, ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা সবাই নিহত হন।

হামলার পর বদলে যায় বিশ্ব:

নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে তিনি নিহত হন।

নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নতুন মাত্রা পায়। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

১৯ ছিনতাইকারী:

মার্কিন তদন্তে হামলার সঙ্গে জড়িত ১৯ জন ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাদের ১৫ জনই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন। মিসরের নাগরিক মোহাম্মদ আত্তা ছিলেন ফ্লাইট ১১-এর হামলাকারী দলের নেতা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক মারওয়ান আল-শেহলি ফ্লাইট ১৭৫-এর দলের নেতৃত্ব দেন। ফ্লাইট ৭৭-এর হামলাকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন হানি হানজুর এবং ফ্লাইট ৯৩-এর নেতৃত্বে ছিলেন লেবাননের নাগরিক জিয়াদ জাররাহ।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলাকারীদের কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রে একাধিকবার প্রবেশ করেছিলেন এবং হামলার আগে তারা দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করে উড়োজাহাজ চালনার প্রশিক্ষণসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

স্মৃতিতে ১১ সেপ্টেম্বর:

২৫ বছর পরও নাইন ইলেভেনের স্মৃতি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসীর কাছে গভীরভাবে বেদনাদায়ক। নিহতদের স্মরণে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত হয়েছে ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়াম। প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর সেখানে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায় নয়—এটি বৈশ্বিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির গতিপথও বদলে দেওয়া একটি ঘটনা।