পরীক্ষামূলক সংস্করণ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং
আজ শনিবার || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার

নিউজ ডেস্ক ।। খোঁজনিউজবিডি.কম: ভারতে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর ইউনিটটি বন্ধ হয়। এতে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে দেশে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সেখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।
কয়লা সরবরাহ সংকটে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কম ছিল। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর সম্প্রতি উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক পর্যায়ে আদানি থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৩২ মেগাওয়াটে।
পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইউনিটটি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু হবে।
তাই বন্ধ ইউনিটটি দ্রুত চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার সকালেও আদানির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। সকাল ৮টায় ৭৩৪ মেগাওয়াট, ৯টায় ৭৩৭ মেগাওয়াট এবং ১০টায় ৭২৪ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। সকাল ১১টায় সরবরাহ ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট।
আদানির ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে দেশে পিডিবির গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন থাকছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় শুক্রবার এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ট্রাফিক আইনবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং

আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউজ ডেস্ক ।। খোঁজনিউজবিডি.কম: ভারতে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর ইউনিটটি বন্ধ হয়। এতে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে দেশে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সেখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।
কয়লা সরবরাহ সংকটে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কম ছিল। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর সম্প্রতি উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক পর্যায়ে আদানি থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৩২ মেগাওয়াটে।
পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইউনিটটি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু হবে।
তাই বন্ধ ইউনিটটি দ্রুত চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার সকালেও আদানির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। সকাল ৮টায় ৭৩৪ মেগাওয়াট, ৯টায় ৭৩৭ মেগাওয়াট এবং ১০টায় ৭২৪ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। সকাল ১১টায় সরবরাহ ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট।
আদানির ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে দেশে পিডিবির গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন থাকছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় শুক্রবার এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।