পরীক্ষামূলক সংস্করণ অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে: জামায়াত আমির
আজ শুক্রবার || ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “প্রতিটি জাতির সংস্কৃতি থাকে। আমারা নিজেদের সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ যদি উপযুক্তভাবে করা যায়, তখন একটি জাতির সুস্থ সংস্কৃতির পরিসর তৈরি হয়। সেই সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানের মেলবন্ধন।” শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর পুরষ্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “এই জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে। এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে। আমাদের মধ্যে বহু ট্যালেন্ট আছেন। বাট মোস্ট অফ দেম আর ইভিল ট্যালেন্টস। আল্লাহর দেওয়া মেধার এই নিয়ামতকে মানবতার, সৃষ্টির এবং কল্যাণের জন্য না লাগিয়ে, এই স্বার্থপর, সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়।” জামায়াত আমির বলেন,“আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই। আর তা হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নকশা কদম অনুসরণ। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।” নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে অনুসরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয় বা একজন শিশু যদি প্রশ্ন করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তার উত্তর হচ্ছে মা আমিনা এবং হালিমাতুস সাদিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার শিশুপুত্র মোহাম্মদ হচ্ছে তোমার অনুসরণীয়।” তিনি বলেন, “তিনি অবুঝ থাকা অবস্থায় দুধ ভাইয়ের হক তিনি নষ্ট করেননি। কাউকে কষ্ট দেননি। মুখ দিয়ে একটা অশ্লীল কথা বলেননি। কারো হক নষ্ট করেননি।”
কিশোর বয়সের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এরপরে যদি একজন কিশোরকে জিজ্ঞেস করা হয় বা কিশোর যদি জিজ্ঞেস করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তাহলে মক্কার সেই শান্ত, সৌম, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের কথাটা এখানে এসে যাবে।”
তিনি বলেন, “কাবাঘর মেরামতের পর পাথর, কালো পাথর, হাজরে আসওয়াদ এটা প্রতিস্থাপন নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা চারটা কবিলার মধ্যে দেখা দিয়েছিল। তার নিখুঁত সমাধান ইনসাফপূর্ণ সমাধান দিয়েছিলেন সেই কিশোর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা এভাবেই তাকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন এই সবগুলোতে নিয়ামত পড়া আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।”
মহানবী (সা.) এর জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি জন্মগতভাবেই তিনি এতিম ছিলেন। জন্মের আগেই পিতা তিনি তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছিলেন আর ছয় বছরের মাথায় মাকেও হারিয়ে ছিলেন। আট বছরের মাথায় দাদাকে হারিয়েছিলেন। এভাবে জীবনে একটার পর একটা ধাক্কা তার জীবনে এসেছিল।”
তিনি বলেন, “একজন ব্যবসায়ী, একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ, একজন সমন্বয়ক, একজন প্রধান বিচারপতি যে ক্ষেত্রেই জীবনের প্রশ্ন আসবে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? নিঃসন্দেহে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম।”

সূত্র: রাইজিংবিডি

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে: জামায়াত আমির

আপডেট টাইম : ১০:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “প্রতিটি জাতির সংস্কৃতি থাকে। আমারা নিজেদের সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ যদি উপযুক্তভাবে করা যায়, তখন একটি জাতির সুস্থ সংস্কৃতির পরিসর তৈরি হয়। সেই সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানের মেলবন্ধন।” শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর পুরষ্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “এই জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে। এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে। আমাদের মধ্যে বহু ট্যালেন্ট আছেন। বাট মোস্ট অফ দেম আর ইভিল ট্যালেন্টস। আল্লাহর দেওয়া মেধার এই নিয়ামতকে মানবতার, সৃষ্টির এবং কল্যাণের জন্য না লাগিয়ে, এই স্বার্থপর, সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়।” জামায়াত আমির বলেন,“আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই। আর তা হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নকশা কদম অনুসরণ। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।” নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে অনুসরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয় বা একজন শিশু যদি প্রশ্ন করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তার উত্তর হচ্ছে মা আমিনা এবং হালিমাতুস সাদিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার শিশুপুত্র মোহাম্মদ হচ্ছে তোমার অনুসরণীয়।” তিনি বলেন, “তিনি অবুঝ থাকা অবস্থায় দুধ ভাইয়ের হক তিনি নষ্ট করেননি। কাউকে কষ্ট দেননি। মুখ দিয়ে একটা অশ্লীল কথা বলেননি। কারো হক নষ্ট করেননি।”
কিশোর বয়সের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এরপরে যদি একজন কিশোরকে জিজ্ঞেস করা হয় বা কিশোর যদি জিজ্ঞেস করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তাহলে মক্কার সেই শান্ত, সৌম, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের কথাটা এখানে এসে যাবে।”
তিনি বলেন, “কাবাঘর মেরামতের পর পাথর, কালো পাথর, হাজরে আসওয়াদ এটা প্রতিস্থাপন নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা চারটা কবিলার মধ্যে দেখা দিয়েছিল। তার নিখুঁত সমাধান ইনসাফপূর্ণ সমাধান দিয়েছিলেন সেই কিশোর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা এভাবেই তাকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন এই সবগুলোতে নিয়ামত পড়া আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।”
মহানবী (সা.) এর জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি জন্মগতভাবেই তিনি এতিম ছিলেন। জন্মের আগেই পিতা তিনি তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছিলেন আর ছয় বছরের মাথায় মাকেও হারিয়ে ছিলেন। আট বছরের মাথায় দাদাকে হারিয়েছিলেন। এভাবে জীবনে একটার পর একটা ধাক্কা তার জীবনে এসেছিল।”
তিনি বলেন, “একজন ব্যবসায়ী, একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ, একজন সমন্বয়ক, একজন প্রধান বিচারপতি যে ক্ষেত্রেই জীবনের প্রশ্ন আসবে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? নিঃসন্দেহে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম।”

সূত্র: রাইজিংবিডি