পরীক্ষামূলক সংস্করণ ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ
আজ শনিবার || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০২:১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে ১০১টি চুক্তি বিশেষভাবে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব চুক্তির কোনোটিতে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে অনৈতিক ও দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কাজ চলছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হলো-সবার আগে বাংলাদেশ। তাই কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে আগে বন্ধু দেশের জাহাজ খালাসের মতো ব্যবস্থা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অসংখ্য চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধনের পথে এগোচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, পর্যালোচনার পর কোন চুক্তি বহাল থাকবে এবং কোন বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করবে। তবে সেই সম্পর্ক যেন দেশের স্বার্থের পরিপন্থি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোয় তিনি ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিফ হুইপের বক্তব্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ে করা চুক্তিগুলো নতুন করে মূল্যায়নের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বিজিবিতে সৈনিক পদে চাকরি, এইচএসসি পাসেই আবেদন

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

আপডেট টাইম : ০২:১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে ১০১টি চুক্তি বিশেষভাবে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব চুক্তির কোনোটিতে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে অনৈতিক ও দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কাজ চলছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হলো-সবার আগে বাংলাদেশ। তাই কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে আগে বন্ধু দেশের জাহাজ খালাসের মতো ব্যবস্থা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অসংখ্য চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধনের পথে এগোচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, পর্যালোচনার পর কোন চুক্তি বহাল থাকবে এবং কোন বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করবে। তবে সেই সম্পর্ক যেন দেশের স্বার্থের পরিপন্থি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোয় তিনি ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিফ হুইপের বক্তব্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ে করা চুক্তিগুলো নতুন করে মূল্যায়নের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।