পরীক্ষামূলক সংস্করণ গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণকে অপমান করা হবে: শফিকুর রহমান
আজ শনিবার || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণকে অপমান করা হবে: শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তি‌নি বলেন, “জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার অধিকার, শক্তি আমাদের কারো নেই। এটি করলে জনগণকে অপমান করা হবে। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলা নিয়ে নেমেছি।” শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও সরকার শুরুতে অস্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিল্পখাত এ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, জ্বালানি সরবরাহে সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এভাবে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সেই অনুপাতে জেলার উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশাও দীর্ঘদিনের সমস্যা। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ—কোনো ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার যথাযথ সুফল পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণকে অপমান করা হবে: শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০১:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তি‌নি বলেন, “জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার অধিকার, শক্তি আমাদের কারো নেই। এটি করলে জনগণকে অপমান করা হবে। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলা নিয়ে নেমেছি।” শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও সরকার শুরুতে অস্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিল্পখাত এ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, জ্বালানি সরবরাহে সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এভাবে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সেই অনুপাতে জেলার উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশাও দীর্ঘদিনের সমস্যা। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ—কোনো ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার যথাযথ সুফল পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।