বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার রাতে WHO-এর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে WHO ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করলেন। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে তাকে বাধ্যতামূলক অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।
সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার নিয়োগ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে।
WHO-এর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চীন সফরের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার আইনজীবীদের দাবি, চীন সফরের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে সমস্যা হয়েছিল, তা ছিল একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তিনি বলেছেন, অটিজম বিষয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেটের বিষয়টি WHO-এর মহাপরিচালককে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। জমি নিয়ে অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, WHO মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তের কারণে তিনি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিন অবৈতনিক ছুটিতে থাকায় তার আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, WHO আনুষ্ঠানিকভাবে সায়মা ওয়াজেদকে বরখাস্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আগামী ১২ অক্টোবর নতুন আঞ্চলিক পরিচালকের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই এবং আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
WHO-এর আঞ্চলিক পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে রোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সংস্থাটির নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা পাঁচ বছর মেয়াদে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত করেন।
রিপোর্টার 






















