পরীক্ষামূলক সংস্করণ সুন্দরবনে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ল বাঘ
আজ শনিবার || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ল বাঘ

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে আবারও বাঘের দেখা মিলেছে। এবার নাইলনের ফেন্সিং ভেদ করে ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে একটি বাঘ। বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে বনরক্ষীরা ওয়াচ টাওয়ারে আশ্রয় নেন। পরে হুইসেল বাজানো ও পটকা ফাটিয়ে বাঘটিকে বনে ফেরানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ফারুকুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বাঘ নাইলনের ফেন্সিং ভেদ করে ট্যুরিজম কেন্দ্রের হরিণের বেষ্টনীর কাছে চলে আসে। বাঘ দেখে নিরাপত্তার জন্য বনরক্ষীরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নেন। ওই সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।

পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী ও ভিটিআরটির স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখানে যান। তাঁরা প্রথমে মাইকে বিকট শব্দ করে এবং হুইসেল বাজিয়ে বাঘটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। পরে ১০টি পটকা ফোটানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি ট্যুরিজম কেন্দ্র ছেড়ে বনে ফিরে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনরক্ষীরা বাঘটিকে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকতে দেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্য শূকর নাইলনের ফেন্সিংয়ের একটি অংশ কেটে ফেলায় ওই স্থান দিয়ে বাঘটি ঢুকে থাকতে পারে। বাঘটি পরে আবার বনে ফিরে যায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য হুইসেল ও পটকা ফাটানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বাঘের প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের আঙিনায় একটি বাঘ এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও পর্যটকেরা নিয়মিত বাঘের চলাচল দেখতে পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও খালে বাঘকে সাঁতার কাটতেও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি তিনিও মরাপশুর বনাঞ্চলে একটি বাঘকে হেঁটে যেতে দেখেছেন। এমনকি গাছে বাঘের পায়ের আঁচড়ের চিহ্নও দেখা গেছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ট্রাফিক আইনবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

সুন্দরবনে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ল বাঘ

আপডেট টাইম : ০৬:২৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে আবারও বাঘের দেখা মিলেছে। এবার নাইলনের ফেন্সিং ভেদ করে ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে একটি বাঘ। বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে বনরক্ষীরা ওয়াচ টাওয়ারে আশ্রয় নেন। পরে হুইসেল বাজানো ও পটকা ফাটিয়ে বাঘটিকে বনে ফেরানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ফারুকুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বাঘ নাইলনের ফেন্সিং ভেদ করে ট্যুরিজম কেন্দ্রের হরিণের বেষ্টনীর কাছে চলে আসে। বাঘ দেখে নিরাপত্তার জন্য বনরক্ষীরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নেন। ওই সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।

পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী ও ভিটিআরটির স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখানে যান। তাঁরা প্রথমে মাইকে বিকট শব্দ করে এবং হুইসেল বাজিয়ে বাঘটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। পরে ১০টি পটকা ফোটানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি ট্যুরিজম কেন্দ্র ছেড়ে বনে ফিরে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনরক্ষীরা বাঘটিকে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকতে দেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্য শূকর নাইলনের ফেন্সিংয়ের একটি অংশ কেটে ফেলায় ওই স্থান দিয়ে বাঘটি ঢুকে থাকতে পারে। বাঘটি পরে আবার বনে ফিরে যায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য হুইসেল ও পটকা ফাটানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বাঘের প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের আঙিনায় একটি বাঘ এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও পর্যটকেরা নিয়মিত বাঘের চলাচল দেখতে পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও খালে বাঘকে সাঁতার কাটতেও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি তিনিও মরাপশুর বনাঞ্চলে একটি বাঘকে হেঁটে যেতে দেখেছেন। এমনকি গাছে বাঘের পায়ের আঁচড়ের চিহ্নও দেখা গেছে।