পরীক্ষামূলক সংস্করণ এক বছর বিচারক শূন্য সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল
আজ শনিবার || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছর বিচারক শূন্য সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

দীর্ঘ এক বছর ধরে বিচারক শূন্য অবস্থায় রয়েছে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত বিচারপ্রার্থী। ট্রাইব্যুনালটিতে বর্তমানে সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মামলাজট। দ্রুত নতুন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা। এদিকে, মামলার জট নিরসন ও দ্রুত বিচারক পদায়নের লক্ষ্যে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। তবে আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের জন্য বিচারক পদায়নের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক বছর ধরে বিচারকের পদ খালি থাকায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মামলা জটে আটকে আছে বিচার কার্যক্রম।

বিচারপ্রার্থীরা কবিতা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে গত ১ বছর বিচারক নেই। তিনি আদালতের চত্বরে বিচারের আশায় এসে প্রতিনিয়ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও তাদের পরিবার। তিনি আরো জানান, দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা যেমন মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায়বিচার।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, “নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। আদালতের অচলাবস্থা দূর করতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারক পদায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ”

সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।” তিনি জানান, সংবেদনশীল মামলার সঠিক বিচার নিশ্চিত ও মানবিক কারণে দ্রুত এখানে বিচারক দেওয়া দরকার। জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিচারক পদায়নের মাধ্যমে থমকে যাওয়া আদালতের বিচারকার্য আবারো গতিশীল হবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও স্থানীয় আইনজীবীদের।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ট্রাফিক আইনবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

এক বছর বিচারক শূন্য সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

আপডেট টাইম : ০৩:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ এক বছর ধরে বিচারক শূন্য অবস্থায় রয়েছে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত বিচারপ্রার্থী। ট্রাইব্যুনালটিতে বর্তমানে সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মামলাজট। দ্রুত নতুন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা। এদিকে, মামলার জট নিরসন ও দ্রুত বিচারক পদায়নের লক্ষ্যে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। তবে আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের জন্য বিচারক পদায়নের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক বছর ধরে বিচারকের পদ খালি থাকায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মামলা জটে আটকে আছে বিচার কার্যক্রম।

বিচারপ্রার্থীরা কবিতা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে গত ১ বছর বিচারক নেই। তিনি আদালতের চত্বরে বিচারের আশায় এসে প্রতিনিয়ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও তাদের পরিবার। তিনি আরো জানান, দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা যেমন মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায়বিচার।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, “নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। আদালতের অচলাবস্থা দূর করতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারক পদায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ”

সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।” তিনি জানান, সংবেদনশীল মামলার সঠিক বিচার নিশ্চিত ও মানবিক কারণে দ্রুত এখানে বিচারক দেওয়া দরকার। জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিচারক পদায়নের মাধ্যমে থমকে যাওয়া আদালতের বিচারকার্য আবারো গতিশীল হবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও স্থানীয় আইনজীবীদের।