পরীক্ষামূলক সংস্করণ... নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: জামায়াত
আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ এসএসসির পুনর্মূল্যায়নে ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম- প্রধানমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে এক দিনে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৬৩ ডলারের বাজারে স্বস্তি: রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের মেয়েদের

নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: জামায়াত

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি মনে করে, এমনটি করা হলে এটি মেধার মূল্যায়নকে দুর্বল করে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির পথ ন্যক্কারজনকভাবে উন্মুক্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির উদ্যোগে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, দেশবাসী মনে করে, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন হাতিয়ার। লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার সুযোগ দেয়।

পরওয়ার বলেন, লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তার অবসান চেয়েছে। একটি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা; নতুন কোনো পদ্ধতিতে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা নয়। তাই নিয়োগব্যবস্থার এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল ও অনুগত জনবল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

রাষ্ট্রের প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সর্বপ্রথম স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: জামায়াত

আপডেট টাইম : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি মনে করে, এমনটি করা হলে এটি মেধার মূল্যায়নকে দুর্বল করে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির পথ ন্যক্কারজনকভাবে উন্মুক্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির উদ্যোগে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, দেশবাসী মনে করে, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন হাতিয়ার। লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার সুযোগ দেয়।

পরওয়ার বলেন, লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তার অবসান চেয়েছে। একটি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা; নতুন কোনো পদ্ধতিতে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা নয়। তাই নিয়োগব্যবস্থার এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল ও অনুগত জনবল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

রাষ্ট্রের প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সর্বপ্রথম স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।