পরীক্ষামূলক সংস্করণ... বিএনপিকে নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল
আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপিকে নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। পাল্টা কয়েকজন বিরোধীদলীয় সদস্যও প্রতিবাদে সরব হন। একপর্যায়ে রুমিন অভিযোগ করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে।” বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট থাকবে না—এমনটা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে না—এমনটাও সম্ভব নয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তবে এর মধ্যেই বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন।

ঋণখেলাপি প্রসঙ্গেও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছাবে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

সংসদ সদস্যদের হইচইয়ের মধ্যে রুমিন বলেন, সংসদে এত অসহিষ্ণু আচরণ দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, যেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফিরে গেছেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সময় তাদের সমালোচনা করলে একইভাবে হট্টগোল করা হতো; এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে, বরং আরও খারাপ আচরণ করছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়েও কথা বলেন রুমিন। তিনি সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য আদালতে রিট করার বিষয়টির সমালোচনা করেন।

একপর্যায়ে রুমিনের নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় সংসদে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

রুমিনকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় সদস্যরাও প্রতিবাদ জানান। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না। পরে তিনি সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির বাইরে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রত্যেক সংসদ সদস্যের স্বাধীনভাবে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বক্তব্যের সময় তা খণ্ডন করা যেতে পারে, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া কাম্য নয়।

পরে হট্টগোল নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সবকিছু সংগত নাও হতে পারে, আবার গুরুত্বপূর্ণ কথাও থাকতে পারে। কিন্তু হট্টগোলের কারণে তাঁর বক্তব্য ঠিকমতো শোনা যায়নি। তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার সে বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এর জবাব দিতে পারেন। এদিকে, হট্টগোলের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বিএনপিকে নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

আপডেট টাইম : ১১:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। পাল্টা কয়েকজন বিরোধীদলীয় সদস্যও প্রতিবাদে সরব হন। একপর্যায়ে রুমিন অভিযোগ করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে।” বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট থাকবে না—এমনটা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে না—এমনটাও সম্ভব নয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তবে এর মধ্যেই বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন।

ঋণখেলাপি প্রসঙ্গেও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছাবে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

সংসদ সদস্যদের হইচইয়ের মধ্যে রুমিন বলেন, সংসদে এত অসহিষ্ণু আচরণ দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, যেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফিরে গেছেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সময় তাদের সমালোচনা করলে একইভাবে হট্টগোল করা হতো; এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে, বরং আরও খারাপ আচরণ করছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়েও কথা বলেন রুমিন। তিনি সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য আদালতে রিট করার বিষয়টির সমালোচনা করেন।

একপর্যায়ে রুমিনের নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় সংসদে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

রুমিনকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় সদস্যরাও প্রতিবাদ জানান। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না। পরে তিনি সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির বাইরে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রত্যেক সংসদ সদস্যের স্বাধীনভাবে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বক্তব্যের সময় তা খণ্ডন করা যেতে পারে, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া কাম্য নয়।

পরে হট্টগোল নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সবকিছু সংগত নাও হতে পারে, আবার গুরুত্বপূর্ণ কথাও থাকতে পারে। কিন্তু হট্টগোলের কারণে তাঁর বক্তব্য ঠিকমতো শোনা যায়নি। তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার সে বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এর জবাব দিতে পারেন। এদিকে, হট্টগোলের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।