পরীক্ষামূলক সংস্করণ... যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত প্রলম্বিত হচ্ছে তেলের দাম ততোই বাড়ছে
আজ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত প্রলম্বিত হচ্ছে তেলের দাম ততোই বাড়ছে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১২:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত প্রলম্বিত হচ্ছে তেলের দাম ততোই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং উভয় প্রধান বেঞ্চমার্কের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর সবচেয়ে বড় আকারের হামলার ঘটনাগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় আরো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে তেলের দামের এই উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ৫ দশমিক ৩৯ ডলার বা ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচারের দর ৫ দশমিক ১৬ ডলার বা ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করল।

আগস্টের শুরুর দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল, সেখান থেকে তা এখন ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এর কারণ হলো—আক্রমণ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি এবং সংঘাত পুনরায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের মোচা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলের জন্য নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-চলাচলও সীমিত রয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বেড়েছে।

এক্সএস ডট কম -এর ব্যবসায়িক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সাইমন-পিটার মাসাবনি বলেন, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইয়েমেন থেকে চালানো হামলা বাজারের জন্য নতুন এক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; এর ফলে উদ্বেগ এখন কেবল ইরান ও হরমুজ প্রণালির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই হুমকি এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পথের (চোক পয়েন্ট) মধ্যে আটকে নেই, বরং এর ফলে আঞ্চলিক রপ্তানি রুট, তেল উৎপাদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোতেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত প্রলম্বিত হচ্ছে তেলের দাম ততোই বাড়ছে

আপডেট টাইম : ১২:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত প্রলম্বিত হচ্ছে তেলের দাম ততোই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং উভয় প্রধান বেঞ্চমার্কের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর সবচেয়ে বড় আকারের হামলার ঘটনাগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় আরো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে তেলের দামের এই উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ৫ দশমিক ৩৯ ডলার বা ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচারের দর ৫ দশমিক ১৬ ডলার বা ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করল।

আগস্টের শুরুর দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল, সেখান থেকে তা এখন ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এর কারণ হলো—আক্রমণ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি এবং সংঘাত পুনরায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের মোচা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলের জন্য নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-চলাচলও সীমিত রয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বেড়েছে।

এক্সএস ডট কম -এর ব্যবসায়িক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সাইমন-পিটার মাসাবনি বলেন, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইয়েমেন থেকে চালানো হামলা বাজারের জন্য নতুন এক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; এর ফলে উদ্বেগ এখন কেবল ইরান ও হরমুজ প্রণালির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই হুমকি এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পথের (চোক পয়েন্ট) মধ্যে আটকে নেই, বরং এর ফলে আঞ্চলিক রপ্তানি রুট, তেল উৎপাদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোতেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।