পরীক্ষামূলক সংস্করণ... দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়াকে বাগ মানা হবে
আজ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়াকে বাগ মানা হবে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১২:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার

প্রতিদিন সকালেই দেশের সব পর্যায়ের সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছে যে, পণ্যমূল্য লাগামহীন হয়ে ছুটছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তার সরাসরি অভিঘাত পড়েছে সঞ্চয়ের ওপর। প্রতিদিন লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দ্রব্যের মূল্য। সে তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না সাধারণ মানুষের আয়। প্রতিনিয়ত হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুক্তি উত্থাপন করা হলেও মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজের অবস্থা আরও বেগতিক। বর্তমান অবস্থা এতটা নাজুক যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতীতের সঞ্চয়কে নষ্ট করছে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোর সমন্বয় সাধন করছে। বাজারের নিত্যপণ্যের মধ্যে চাল-ডাল-তেল-মসলা-সিলিন্ডার গ্যাসের সমন্বয় করতে গিয়েই সারা মাসের বাজেট ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিবারের খরচ মেটাতে না পারার কারণে অনেকেই যেমন হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন অপকর্মেও পা দিচ্ছে। তা ছাড়াও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর যেসব ব্যবস্থা রয়েছে তাও সঠিকভাবে আয়ের দিক দিয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছছে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের প্রদত্ত সেবার বাইরে মানুষকে অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, সেসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বেলায় সরকারকে আরো বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে। অন্যদিকে জনসাধারণকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হলে কেবল সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় সেই সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে, না হলে অর্থনীতির ভারসাম্য তৈরি হবে না। যেসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পত্রপত্রিকায় পণ্যমূল্যের বিষয়ে কোনো রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর এর দাম আরও বাড়ে। এই দাম বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান থাকে। সিন্ডিকেট, চাঁদাবজি থেকে শুরু করে বন্যা, কম উৎপাদন, অতিরিক্ত মুনাফা লোভ ইত্যাদি নানা কারণে দাম বাড়ে। এ ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য কম রাখার বিষয়ে সরকারের আপসহীনতা এবং প্রয়োজনবোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ব্যবস্থাপনা পণ্যমূল্য ন্যায্য সীমার ভেতর আটকে রাখে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়াকে বাগ মানা হবে

আপডেট টাইম : ১২:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিদিন সকালেই দেশের সব পর্যায়ের সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছে যে, পণ্যমূল্য লাগামহীন হয়ে ছুটছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তার সরাসরি অভিঘাত পড়েছে সঞ্চয়ের ওপর। প্রতিদিন লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দ্রব্যের মূল্য। সে তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না সাধারণ মানুষের আয়। প্রতিনিয়ত হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুক্তি উত্থাপন করা হলেও মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজের অবস্থা আরও বেগতিক। বর্তমান অবস্থা এতটা নাজুক যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতীতের সঞ্চয়কে নষ্ট করছে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোর সমন্বয় সাধন করছে। বাজারের নিত্যপণ্যের মধ্যে চাল-ডাল-তেল-মসলা-সিলিন্ডার গ্যাসের সমন্বয় করতে গিয়েই সারা মাসের বাজেট ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিবারের খরচ মেটাতে না পারার কারণে অনেকেই যেমন হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন অপকর্মেও পা দিচ্ছে। তা ছাড়াও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর যেসব ব্যবস্থা রয়েছে তাও সঠিকভাবে আয়ের দিক দিয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছছে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের প্রদত্ত সেবার বাইরে মানুষকে অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, সেসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বেলায় সরকারকে আরো বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে। অন্যদিকে জনসাধারণকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হলে কেবল সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় সেই সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে, না হলে অর্থনীতির ভারসাম্য তৈরি হবে না। যেসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পত্রপত্রিকায় পণ্যমূল্যের বিষয়ে কোনো রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর এর দাম আরও বাড়ে। এই দাম বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান থাকে। সিন্ডিকেট, চাঁদাবজি থেকে শুরু করে বন্যা, কম উৎপাদন, অতিরিক্ত মুনাফা লোভ ইত্যাদি নানা কারণে দাম বাড়ে। এ ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য কম রাখার বিষয়ে সরকারের আপসহীনতা এবং প্রয়োজনবোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ব্যবস্থাপনা পণ্যমূল্য ন্যায্য সীমার ভেতর আটকে রাখে।