পরীক্ষামূলক সংস্করণ সৌদির বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না: পেজেশকিয়ান
আজ সোমবার || ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না: পেজেশকিয়ান

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের নিজস্ব বিরোধ রয়েছে। ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ করছে না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করছি না। হুথিদের সৌদির সঙ্গে নিজস্ব ইস্যু রয়েছে।’ তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সব দেশের একসঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা উচিত। একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জড়ানোর কোনো কারণ বা যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ইরানে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমের অনেকে হুথিদের এ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের জয় হিসেবে দেখছেন।

হুথি বিদ্রোহীদের অধিকাংশই জাইদি শিয়া মুসলিম। ২০১৪ সালে পশ্চিমা ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখল করে তারা। এরপর থেকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। লোহিত সাগরে হুথিদের সাম্প্রতিক বিজয়কে ‘আল্লাহর দেওয়া জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি। শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পূর্ব উপকূলে আনসারুল্লাহদের (হুথি) জয় আল্লাহর দেওয়া জয় এবং কঠিনতম যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার ফল।

গত শুক্রবার বন্দরনগরী মোখা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে হুথিরা। এ ঘটনাকে ইয়েমেন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোখার নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফও হুথিদের এ জয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি পুরোনো বক্তব্য সামনে এনে বলেন, ‘হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।’ ঘালিবাফ নিজেও বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। অন্যদিকে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ বলেছেন, হুথিদের এ জয়ে ইরান সরকার খুশি। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সৌদির বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না: পেজেশকিয়ান

সৌদির বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না: পেজেশকিয়ান

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের নিজস্ব বিরোধ রয়েছে। ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ করছে না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করছি না। হুথিদের সৌদির সঙ্গে নিজস্ব ইস্যু রয়েছে।’ তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সব দেশের একসঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা উচিত। একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জড়ানোর কোনো কারণ বা যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ইরানে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমের অনেকে হুথিদের এ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের জয় হিসেবে দেখছেন।

হুথি বিদ্রোহীদের অধিকাংশই জাইদি শিয়া মুসলিম। ২০১৪ সালে পশ্চিমা ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখল করে তারা। এরপর থেকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। লোহিত সাগরে হুথিদের সাম্প্রতিক বিজয়কে ‘আল্লাহর দেওয়া জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি। শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পূর্ব উপকূলে আনসারুল্লাহদের (হুথি) জয় আল্লাহর দেওয়া জয় এবং কঠিনতম যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার ফল।

গত শুক্রবার বন্দরনগরী মোখা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে হুথিরা। এ ঘটনাকে ইয়েমেন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোখার নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফও হুথিদের এ জয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি পুরোনো বক্তব্য সামনে এনে বলেন, ‘হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।’ ঘালিবাফ নিজেও বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। অন্যদিকে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ বলেছেন, হুথিদের এ জয়ে ইরান সরকার খুশি। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।