চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের খাতা পুনর্মূল্যায়নে ফলাফলে বড় পরিবর্তন এসেছে; আগে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবার পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আবেদনকারীদের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের মূল ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আশানুরূপ ফল না পেয়ে সে সময় রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। মূল ফল প্রকাশের ঠিক এক মাস পর আজ সংশোধিত এই ফল প্রকাশ করা হলো।
এবারের ফল পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আগেই জানিয়েছিলেন, এবার শুধু প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে দেখা হয়নি, বরং উত্তরপত্রগুলো নতুন করে সম্পূর্ণ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগের নিয়মে কেবল নম্বরের যোগ-বিয়োগে ভুল আছে কি না, তা যাচাই করা হতো।নতুন নিয়মে খাতা পুনর্মূল্যায়ন হওয়ার কারণেই এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের আবেদন করায় লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ৪০ হাজার এবং কারিগরি বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদনের সুযোগ নেন। অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতিটিতেও ১৭ হাজার থেকে ৩৯ হাজার পর্যন্ত পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।
রিপোর্টার 
















