পরীক্ষামূলক সংস্করণ... ডলারের বাজারে স্বস্তি: রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি
আজ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডলারের বাজারে স্বস্তি: রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক ধারার দেখা মিলেছে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি উভয় খাতেই জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম ৭১ দিনেই দেশে এসেছে ৬৭৩ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৭৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে কেবল চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই এসেছে ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার) চেয়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

এমনকি গত ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই দেশে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক হাওয়া বইছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে দেশে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৪৯০ কোটি ডলার) চেয়ে ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, এই দুই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ৭১১ কোটি ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থ পাচার ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ এবং হুন্ডির প্রবণতা কমে আসার কারণেই মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার হার বেড়েছে।

এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই দুই প্রধান উৎসে এমন প্রবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ধরে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সার্বিক রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে এবং নিট রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দর এখন ১২৩ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত মাসের শুরুতে ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ডলারের বাজারে স্বস্তি: রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি

আপডেট টাইম : ১১:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক ধারার দেখা মিলেছে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি উভয় খাতেই জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম ৭১ দিনেই দেশে এসেছে ৬৭৩ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৭৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে কেবল চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই এসেছে ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার) চেয়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

এমনকি গত ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই দেশে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক হাওয়া বইছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে দেশে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৪৯০ কোটি ডলার) চেয়ে ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, এই দুই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ৭১১ কোটি ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থ পাচার ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ এবং হুন্ডির প্রবণতা কমে আসার কারণেই মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার হার বেড়েছে।

এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই দুই প্রধান উৎসে এমন প্রবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ধরে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সার্বিক রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে এবং নিট রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দর এখন ১২৩ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত মাসের শুরুতে ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল।