সাতক্ষীরা শহর পেরিয়ে মুন্সিগঞ্জের দিকে এগোলেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। একদিকে নদী-খাল, অন্যদিকে সবুজের বিস্তীর্ণ সমারোহ। পথের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে অনুভব করা যায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অস্তিত্ব। সড়কপথে সুন্দরবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর এই সুযোগ সাতক্ষীরাকে দেশের অন্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসেন। কলাগাছিয়া, দোবেকিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে দেখেন বন, নদী ও খালের অপরূপ দৃশ্য। নৌপথে চলার সময় কখনো চোখে পড়ে চিত্রা হরিণ, বানর কিংবা কুমির। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলতে পারে রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও।
সুন্দরবনের এই অংশে রয়েছে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতসহ বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থান। ফলে প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য সাতক্ষীরা রেঞ্জ হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তবে সম্ভাবনার তুলনায় পর্যটন অবকাঠামো এখনো পিছিয়ে। সুন্দরবনের কাছাকাছি কিছু রিসোর্ট ও ইকো-ট্যুরিজমকেন্দ্র গড়ে উঠলেও পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুতগতির নৌযান, মানসম্মত আবাসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়।
পর্যটকদের অভিযোগ, নৌযানে ওঠানামা করা অনেকের জন্য কষ্টকর। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি আরও অসুবিধাজনক। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নৌযানের ভাড়া, গাইড ও সরকারি রাজস্বসহ বিভিন্ন খরচ। পর্যাপ্ত টয়লেট ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবও অনেককে নিরুৎসাহিত করছে।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাতক্ষীরায় যোগাযোগের সুযোগ বেড়েছে। ফলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরতে পারলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রচার, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে হলে উন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগ, মানসম্মত আবাসন, নিরাপদ নৌযান, পর্যটনবান্ধব সেবা এবং সহজ অনুমতিপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে বন বিভাগের দৃষ্টিতে সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তাই পর্যটন বাড়ানোর পাশাপাশি বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পর্যটকদের বনে প্রবেশ করতে হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এই সময়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরা রেঞ্জ দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
খোঁজ নিউজ ডেস্ক 




















