সুস্থ থাকতে চান—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু সুস্থ থাকার সংজ্ঞা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর সবার কাছে এক নয়। কারও কাছে সুস্থতা মানে রোগমুক্ত শরীর, কারও কাছে কাঙ্ক্ষিত ওজন, আবার কারও কাছে মানসিক প্রশান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ, ডায়েট, ব্যায়াম, সাপ্লিমেন্ট ও ‘ওয়েলনেস’ পণ্যের প্রচার এতটাই বেড়েছে যে অনেকের কাছে সুস্থ থাকার বিষয়টিই যেন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একদিকে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে, চিকিৎসকের কাছে সীমিত সময় পাওয়া যাচ্ছে; অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন স্বাস্থ্যপরামর্শ। ফলে কোনটি সত্যিই প্রয়োজনীয় আর কোনটি শুধু প্রচারণা—তা বুঝতে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দীর্ঘদিন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক লুসি ম্যাকব্রাইড তার বই Beyond the Prescription-এ স্বাস্থ্যকে দেখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছেন—একজন মানুষের কাছে ‘সুস্থ থাকা’ আসলে কী অর্থ বহন করে?
সুস্থতার সংজ্ঞা সবার জন্য এক নয়
একজন মানুষ হয়তো দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য প্রতিদিন কঠোর শরীরচর্চা করতে চান। অন্য কেউ হয়তো নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, পরিমিত খাবার, ভালো ঘুম এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
অর্থাৎ, স্বাস্থ্য শুধু কোনো পরীক্ষার রিপোর্ট বা শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে না। মানুষের বয়স, জীবনযাপন, মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সামর্থ্য ও ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার—সবকিছুই সুস্থতার সঙ্গে জড়িত।
সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন অন্যের জীবনযাপনের মডেলকে নিজের জন্যও আদর্শ ধরে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে কঠোর ডায়েট করতে দেখে অন্য একজনও হয়তো একই নিয়ম অনুসরণ শুরু করেন। কিন্তু সেই ডায়েট তার শরীর, কাজের ধরন কিংবা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আদৌ মানানসই কি না, সেটি বিবেচনায় থাকে না।
সহজ বিষয়গুলোই সবচেয়ে কঠিন
সুস্থ থাকার মৌলিক বিষয়গুলো খুব বেশি বদলায়নি। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সুস্থ সামাজিক যোগাযোগ—এসবই দীর্ঘদিন ভালো থাকার ভিত্তি।
কিন্তু বাস্তব জীবনে এসব মেনে চলা সবসময় সহজ নয়। কারও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কারও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, আবার কারও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়মিত ব্যায়াম বা স্বাস্থ্যকর খাবারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ কারণে এমন জীবনযাপন বেছে নেওয়া দরকার, যা বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে পালন করা সম্ভব। কয়েক সপ্তাহ কঠোর নিয়ম মেনে পরে সব ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে প্রতিদিন সামান্য পরিবর্তন করে সেটি ধরে রাখা বেশি কার্যকর হতে পারে।
যেমন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা জিমে যাওয়া সম্ভব না হলে নিয়মিত হাঁটা দিয়ে শুরু করা যায়। খাদ্যাভ্যাস একদিনে পুরোপুরি পাল্টানোর পরিবর্তে অতিরিক্ত চিনি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার ধীরে ধীরে কমানো যেতে পারে।
‘পারফেক্ট’ হওয়ার চাপও সমস্যা
স্বাস্থ্য নিয়ে বর্তমান সময়ের বড় একটি সমস্যা হলো সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা। কত গ্রাম
খোঁজনিউজবিডি.কম 




















